BN
All hadiths
The complete card collection, filter by chapter
আল-কুরআনুল কারীম ও কুরআন সংক্রান্ত বিবিধ বিদ্যা
26
হাদীস ও হাদীস সংক্রান্ত বিবিধ বিদ্যা
3
আকীদা
135
ফিকহ ও উসূলে ফিকহ
288
ফযীলত ও শিষ্ঠাচার
288
দা‘ওয়াহ্ (আল্লাহর পথে আহ্বান) ও হিসবাহ (সৎকাজের আদেশ-অসৎকাজের নিষেধ)
15
জীবনী ও ইতিহাস
38
655 hadiths
আব্দুল্লাহ ইবনু ’আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “প্রতিদানকারী আত্মীয়তার হক সংরক্ষণকারী নয়; বরং আত্মীয়তার হক সংরক্ষণকারী সে ব্যক্তি, যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হবার পরও তা বজায় রাখে।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।
জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে কোনো মুসলিম কোনো গাছ লাগায়, অতঃপর তা থেকে যতটা খাওয়া হয়, তা তার জন্য সাদকাহ হয়, তা থেকে যতটুকু চুরি হয়, তা তার জন্য সাদকাহ হয় এবং যে কোনো ব্যক্তি তার থেকে কিছু গ্রহণ করে, সেটাও তার জন্য সাদকাহ হয়ে যায়।” অন্য এক বর্ণনায় আছে, “মুসলিম যে গাছ লাগায়, আর তা থেকে কোনো মানুষ, কোনো জন্তু ও কোনো পাখী যা কিছু খায়, তা কিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য সাদকাহ হয়ে যায়।” অন্য এক বর্ণনায় আছে, “মুসলিম যে গাছ লাগায় এবং ফসল বুনে অতঃপর তা থেকে কোনো মানুষ, কোন জন্তু অথবা অন্য কিছু খায়, তবে তা তার জন্য সাদকাহ হয়ে যায়।” আর তারা উভয় আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর বর্ণনা থেকে বর্ণনা করেছে।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কাউকে একবার চিমটি কাটায় যতোটুকু ব্যথা পাও শহীদ তার শাহাদাতের সময় ততোটুকুই কষ্ট পায়।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। - এটি দারিমী বর্ণনা করেছেন
রসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হল, রসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর পথে জিহাদ করার সমতুল্য আমল কি? তিনি বললেন, “তোমরা তা পারবে না।” তারা তাঁকে দু’-তিনবার ঐ একই কথা জিজ্ঞাসা করতে থাকল, আর তিনি প্রত্যেকবারে বললেন, “তোমরা তার ক্ষমতা রাখ না।” তারপর বললেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ-কারীর দৃষ্টান্ত ঠিক সেই রোজাদার ও আল্লাহর আয়াত পাঠ করে নামায আদায়কারীর মত, যে রোযা রাখতে ও নামায পড়তে আদৌ ক্লান্তি-বোধ করে না। (এরূপ ততক্ষণ পর্যন্ত গণ্য হয়) যতক্ষণ না মুজাহিদ জিহাদ থেকে ফিরে আসে।” বুখারীর এক বর্ণনায় আছে, একটি লোক বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন একটি আমল বাতলে দিন, যা জিহাদের সমতুল্য হবে।’ তিনি বললেন, “আমি এ ধরনের আমল তো পাচ্ছি না।” তারপর তিনি বললেন, “তুমি কি এরূপ করতে পারবে যে, মুজাহিদ যখন বের হয়ে যাবে, তখন থেকে তুমি মসজিদে ঢুকে অ-ক্লান্তভাবে নামাযে নিমগ্ন হবে এবং অবিরাম রোযা রাখবে।” সে বলল, ‘ও কাজ কে করতে পারবে?’
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।
আবূ মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে তার প্রতিপালকের যিকর করে, আর যে যিকর করে না, তাদের উপমা হলো জীবিত ও মৃত ব্যক্তি”। আর মুসলিমের শব্দ হলো: “যে ঘরে আল্লাহকে স্মরণ করা হয় আর যে ঘরে আল্লাহকে স্মরণ করা হয় না এরূপ দুটি ঘরের তুলনা করা যায় জীবিত ও মৃতের সঙ্গে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিম
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলো, হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে কে উত্তম ব্যবহার পাওয়ার বেশি হকদার? তিনি বললেন, “তোমার মা।” লোকটি বলল, তারপর কে, তিনি বললেন, “তোমার মা।” সে বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, “তোমার মা।” সে বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, “তারপরে তোমার বাবা।” (বুখারী ও মুসলিম) মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, একব্যক্তি প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মধ্যে সদ্ব্যবহার পাওয়ার সর্বাপেক্ষা হকদার কে? তিনি বললেন, “তোমার মা। এরপরও তোমার মা। এরপরও তোমার মা। এরপর তোমার বাবা। এরপর তোমার নিকটবর্তী আত্মীয়-স্বজন। এরপর তোমার নিকটবর্তী লোকজন।” হাদীসে বর্ণিত সাহাবা শব্দটি সুহবাহ তথা সঙ্গের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, “সুম্মা আবাকা” উহ্য ক্রিয়া দ্বারা নসব বিশিষ্ট হয়েছে। অর্থাৎ অতঃপর তোমার বাবার সাথে উত্তম আচরণ করো। অন্য র্বণনায় “সুম্মা আবূকা” তথা রফ‘আ বিশিষ্ট হয়েছে। এর কারণ স্পষ্ট।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।
ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হাদীস বর্ণিত, “যে অভাবগ্রস্ত হয় এবং সে তা লোকদের নিকট প্রকাশ করে, তার অভাব দূর করা হয় না। আর যে ব্যক্তি তা আল্লাহর নিকট প্রকাশ করে, আল্লাহ তাকে শীঘ্র অথবা বিলম্বে হলেও রিযিক প্রদান করেন।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোন ব্যক্তি যদি কোন অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে অবকাশ দেয় বা তার নিকট পাওনা মাফ করে দেয়, আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তাঁর আরশের ছায়ায় তাকে ছায়া দিবেন। যে দিন আল্লাহর ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না।”
এটি তিরিমিযী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “যে ব্যক্তি ইলম শেখার উদ্দেশ্যে বের হলো, সে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহর রাস্তায়।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হাদীস বর্ণিত: “যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখল, সে আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখবে অথবা সে যেন আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখল। কেননা, শয়তান আমার রূপ ধারণ করতে পারে না।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।
আবূ সা‘ঈদ খুদরী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে রব বলে, ইসলামকে দ্বীন হিসাবে ও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবী হিসেবে মেনে নিলো, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে গেল।’’ আবূ সাঈদ [বর্ণনাকারী] অনুরূপ উক্তি শুনে আশ্চর্য হলেন এবং বললেন: ‘হে আল্লাহর রাসূল! কথাগুলো আমাকে আবার বলুন।’ তিনি তাই করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘‘আরও একটি পুণ্যের সুসংবাদ, যার বিনিময়ে বান্দার জন্য আল্লাহ তা'আলা জান্নাতের মধ্যে একশ’টি স্তর উঁচু করে দেবেন, প্রতি দুই স্তরের মাঝখানের দূরত্ব হবে, আকাশ-পৃথিবীর মধ্যখানের দূরত্ব সম।’’ আবূ সাঈদ বললেন: ‘হে আল্লাহর রাসূল! সেটি কি?’ তিনি বললেন, ‘‘আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ।’’
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন
আবূ কাতাদাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু একবার তার কাছ থেকে ঋণ গ্রহণকারী একজনকে খোঁজ করেন। সে তার থেকে লুকিয়ে ছিল। পরে তিনি তাকে পেয়ে যান। সে বললঃ আমি অভাবগ্রস্ত। তিনি বললেনঃ আল্লাহর শপথ! সে বললঃ আল্লাহর শপথ। তিনি বললেনঃ তাহলে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি এটা চায় যে, আল্লাহ তাকে কিয়ামত দিবসের দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি দিক সে যেন ঋণগ্রস্ত অক্ষম লোকের সহজ ব্যবস্থা করে কিংবা ঋণ মওকুফ করে দেয়”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি রমযানে ঈমানের সাথে ও সাওয়াব লাভের আশায় সাওম পালন করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিম
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল ক্বদরে রাত জেগে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিম
ওয়াহশী ইবন হারব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা খাবার খাই, কিন্তু পরিতৃপ্ত হতে পারি না। তিনি বললেনঃ “হয় তো তোমরা বিচ্ছিন্নভাবে খাও”। তারা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ “তোমরা একত্রে আহার করো এবং খাদ্য গ্রহণের সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করো, তাহলে তোমাদের খাদ্যে বরকত দেয়া হবে”।
এটি আবূ দাউদ, ইবন মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: “নিশ্চয় আল্লাহ আমার উম্মাতের ভুল, বিস্মৃতি ও জোরপূর্বক যা করানো হয় তা ক্ষমা করে দিয়েছেন।”
এটি ইবনে মাজাহ, বায়হাকী ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
সালেম ইবন আব্দুল্লাহ ইবন উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) বললেন, “আব্দুল্লাহ ইবন উমার কতই না ভালো মানুষ হত, যদি সে রাতে (তাহাজ্জুদের) সালাত পড়ত।” সালেম বলেন, তারপর থেকে (আমার আব্বা) আব্দুল্লাহ রাতে অল্পক্ষণই ঘুমাতেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে মারফু হিসেবে বর্ণিত, “তিনটি জিনিস মৃত ব্যক্তিকে অনুসরণ করে: তার আত্মীয়-স্বজন, তার ধন-সম্পদ ও তার আমল। অতঃপর দু’টি জিনিস ফিরে আসে এবং একটি জিনিস রয়ে যায়। তার আত্মীয়-স্বজন ও তার ধন-সম্পদ ফিরে আসে, আর তার আমল (তার সঙ্গে) রয়ে যায়।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আরোহী পায়ে হাঁটা ব্যক্তিকে, পায়ে হাঁটা ব্যক্তি বসে থাকা ব্যক্তিকে এবং অল্প সংখ্যক লোক অধিক সংখ্যক লোককে সালাম দিবে।” সহীহ বুখারী রহ. এর বর্ণনায় রয়েছে: “ছোট বড়কে, চলমান বসে থাকা ব্যক্তিকে এবং অল্প সংখ্যক অধিক সংখ্যককে সালাম দিবে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিম
আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মরফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, ““কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্য হতে এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে, যে দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী ও বিলাসী ছিল। অতঃপর তাকে জাহান্নামে একবার (মাত্র) চুবানো হবে, তারপর তাকে বলা হবে, ‘হে আদম সন্তান! তুমি কি কখনো ভাল জিনিস দেখেছ? তোমার নিকটে কি কখনো সুখ-সামগ্রী এসেছে?’ সে বলবে, ‘না। আল্লাহর কসম! হে রব!’ আর জান্নাতীদের মধ্য হতে এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে, যে দুনিয়ার সবচেয়ে দুখী ও অভাবী ছিল। তাকে জান্নাতে (মাত্র একবার) চুবানোর পর বলা হবে, ‘হে আদম সন্তান! তুমি কি (দুনিয়াতে) কখনো কষ্ট দেখছ? তোমার ওপরে কি কখনো বিপদ গেছে?’ সে বলবে, ‘না। আল্লাহর কসম! আমার ওপর কোনদিন কষ্ট আসেনি এবং আমি কখনো কোন বিপদও দেখিনি।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে মরফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, কিছু বেদুঈন লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, ‘আপনারা কি আপনাদের শিশু-সন্তানদেরকে চুমু দিয়ে থাকেন?’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হ্যাঁ।” তারা বলল, ‘কিন্তু আল্লাহর কসম! আমরা চুমু দিই না।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আল্লাহ যদি তোমাদের অন্তর থেকে দয়া উঠিয়ে নেন, তবে আমি কি পারব সেটা ফিরিয়ে আনতে?
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মরফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “আল্লাহ রহমতকে একশ ভাগ করেছেন। তার মধ্যে নিরানব্বই ভাগ তিনি নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। আর পৃথিবীতে একভাগ অবতীর্ণ করেছেন। ঐ এক ভাগের কারণেই মখলুকেরা একে অন্যের ওপর দয়া করে। এমনকি জন্তু তার বাচ্চার উপর থেকে স্বীয় পা তুলে নেয় তাকে কষ্ট দিবে আশঙ্কায়।” অন্য এক বর্ণনায় আছে, “নিশ্চয় আল্লাহর একশটি রহমত আছে, যার মধ্য থেকে মাত্র একটি রহমত তিনি জিন, মানব, পশু ও কীটপতঙ্গের মধ্যে অবতীর্ণ করেছেন। ঐ এক ভাগের কারণেই তারা একে অপরকে মায়া করে, তার কারণেই একে অন্যকে দয়া করে এবং তার কারণেই হিংস্র জন্তু তার সন্তানকে মায়া করে থাকে। বাকী নিরানব্বইটি রহমত আল্লাহ আখেরাতের জন্য রেখে দিয়েছেন, যার দ্বারা তিনি কিয়ামতের দিন আপন বান্দাদের ওপর রহম করবেন।” সালমান ফারসী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলার একশটি রহমত আছে, যার মধ্য থেকে মাত্র একটির কারণে মাখলুকেরা একে অন্যের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে। আর নিরানব্বইটি (রহমত) কিয়ামতের দিনের জন্য রয়েছে।” অন্য এক বর্ণনায় আছে, “আল্লাহ তা‘আলা আসমান যমীন সৃষ্টি করার দিন একশটি রহমত সৃষ্টি করলেন। প্রতিটি রহমত আসমান ও যমীনের মধ্যস্থলের পর্দার ন্যায় (বিশাল)। অতঃপর তিনি তার মধ্য থেকে একটি রহমত পৃথিবীতে অবতীর্ণ করলেন। ঐ একটির কারণেই মা তার সন্তানকে মায়া করে এবং হিংস্র প্রাণী ও পাখীরা একে অন্যের ওপর দয়া করে থাকে। অতঃপর যখন কিয়ামতের দিন হবে, তখন আল্লাহ ঐ সংখ্যা এই রহমত দ্বারা পূর্ণ করবেন।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।
আবূ যার জুনদুব ইবনু জুনাদাহ ও আবূ আব্দুর রহমান মুআয ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তুমি যেখানে থাক আল্লাহকে ভয় কর, মন্দ কাজের পশ্চাতে ভাল কাজ কর, যা মন্দকে মুছে ফেলবে এবং মানুষের সাথে উত্তম আচরণ কর”।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।
নাওওয়াস ইবনু সাম’আন আল আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পুণ্য ও পাপ সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তখন তিনি জবাব দিলেন: “পুণ্য হলো উন্নত চরিত্র। আর পাপ হলো যা তোমার অন্তরে দ্বিধা-দ্বন্ধ সৃষ্টি করে এবং লোকে তা জানুক তা তুমি অপছন্দ করো”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন
Previous page
Page 8 of 28
Next page