Hadith for the World

All hadiths

The complete card collection, filter by chapter

655 hadiths

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন: ‘‘আচ্ছা তোমরা বল তো, যদি কারোর বাড়ির দরজার সামনে একটি নদী থাকে, যাতে সে প্রতিদিন পাঁচবার করে গোসল করে, তাহলে তার শরীরে কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকবে কি?’’ সাহাবীরা বললেন, ‘না, কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকবে না।’ তিনি বললেন, ‘‘পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উদাহরণও সেরূপ। এর দ্বারা আল্লাহ পাপরাশি নিশ্চিহ্ন করে দেন।’’সহীহ বুখারী ও মুসলিম
নু‘মান ইবনু বাশীর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “পারস্পরিক দয়া, ভালোবাসা ও সহানুভূতি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে মুমিনদের উদাহরণ একটি দেহের মতো। যখন শরীরের একটি অঙ্গ রোগাক্রান্ত হয়, তখন শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অনিদ্রা এবং জ্বরে অংশ নেয়।”সহীহ বুখারী ও মুসলিম
ইবনু ’আব্বাস রদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিপদের সময় বলতেন, «لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ» “আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি মহান ও পরম সহিষ্ণু। আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি মহা ‘আরশের রব। আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি আসমানের রব, জমিনের রব এবং মর্যাদাবান ‘আরশের রব।”সহীহ বুখারী ও মুসলিম
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে সূর্য গ্রহণ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষদের নিয়ে সূর্যগ্রহণের সালাত পড়েন। তাতে তিনি দীর্ঘ কিয়াম করেন, তারপর দীর্ঘ রুকূ করেন, তারপর রুকূ থেকে উঠেও দীর্ঘ কিয়াম করেন, এ ছিল প্রথম কিয়ামের থেকে কিছুটা কম। অতঃপর সাজদায় গিয়ে দীর্ঘ সাজদাহ করেন, অতঃপর পরবর্তী রাকা‘আতে তাই করেন যা প্রথম রাকা‘আতে করে থাকেন। তারপর তিনি সালাম ফিরান অথচ সূর্য তখন পরিস্কার হয়ে পড়লো। তারপর তিনি মানুষকে ভাষণ দিলেন। আল্লাহর প্রশংসা এবং কৃতজ্ঞতা আদায় করার পর বললেন। চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের দুটি নিদর্শন। কারো মারা যাওয়া বা জন্ম হওয়ার কারণে চন্দ্র বা সূর্য গ্রহণ হয় না। যখন তোমরা তা দেখো আল্লাহকে ডাকো, তাকবীর বলো, সালাত আদায় করো এবং সাদকা করো। তারপর তিনি বলেন, হে উম্মাতে মুহাম্মাদ কেউ আল্লাহর চাইতে অধিক ঈর্ষান্বিত নয় যে, একজন তার গোলামের সাথে বা বাঁদীর সাতে ব্যভিচার করবে। হে উম্মাতে মুহাম্মাদ আমি যা জানি যদি তোমরা তা জানতে তাহলে তোমরা কম হাঁসতে এবং অধিক কাঁদতে। অপর শব্দে বর্ণিত: তারপর তিনি চার রাকা‘আত এবং চার সাজদাহ পূর্ণ করেন।মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাতের সকল অংশেই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (অর্থাৎ বিভিন্ন সময়ে) সালাত বিতর আদায় করতেন। রাতের প্রথমাংশে, মধ্যভাগে ও শেষাংশের সালাতে বিতর আদায় করতেন। রাতের শেষভাগে সাহরির সময় তার বিতর শেষ হতো।”মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।
‘আমর ইবন শু‘আইব, তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা নিজেদের সন্তান-সন্ততিদেরকে সালাতের আদেশ দাও; যখন তারা সাত বছরের হবে। আর তারা যখন দশ বছরের সন্তান হবে, তখন তাদেরকে সালাতের জন্য প্রহার কর এবং তাদের বিছানা পৃথক করে দাও।”আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন
আবদুল্লাহ্ বিন যায়েদ বিন আসেম আল-মাযেনী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বৃষ্টির জন্য দু‘আ করার উদ্দেশ্যে বের হলেন। অতঃপর কিবলামুখী হয়ে দু’আ করলেন। আর নিজের চাদর উল্টিয়ে নিলেন । অতঃপর তিনি দুই রাকআত সলাত আদায় করলেন। তাতে তিনি উঁচু আওয়াজে কিরাআত পড়লেন। অপর শব্দে ঈদ গাহের দিকে বের হলেন।মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।
আবু সাঈদ আল-খুদরী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যখন তোমাদের কেউ হাই তোলে, তখন সে যেন তার হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখে, অন্যথায় শয়তান প্রবেশ করবে।"ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা কি জান, গীবত কী?” তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন:“ (গীবত হল) তোমার ভাইয়ের সম্পর্কে এমন কিছু আলোচনা করা, যা সে অপছন্দ করে।” প্রশ্ন করা হল, আমি যা বলছি তা যদি আমার ভাই এর মধ্যে থাকে? তিনি বললেন: “তুমি যা বলছ তা যদি তার মধ্যে থাকে তাহলেই তুমি তার গীবত করলে। আর যদি তা না থাকে তা হলে তো তুমি তাকে অপবাদ দিলে।”ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন
ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত, “যুলুম কিয়ামতের দিন অনেকগুলো অন্ধকার হবে।” জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত, “তোমরা অত্যাচার করা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা অত্যাচার কিয়ামতের দিন অন্ধকারস্বরূপ। আর তোমরা কৃপণতা থেকে দূরে থাকো। কেননা কৃপণতা তোমাদের পূর্বের লোকেদের ধ্বংস করেছে।”এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।
খাওলা আনসারিয়্যাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: “কিছু সংখ্যক মানুষ আল্লাহ তা‘আলার সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে থাকে। কিয়ামত দিবসে তাদের জন্য জাহান্নামের আগুন নির্ধারিত।”এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা(ভিত্তিহীন) ধারণা করা থেকে বিরত থাকো। কারণ ধারণা করা সবোর্চ্চ মিথ্যা কথা। “তোমরা পরস্পরের বিরুদ্ধে তথ্য তালাশ করো না, গোয়েন্দাগিরি করো না, হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করো না, পৃষ্ঠপ্রদর্শন করো না এবং পরষ্পরে ঘৃণা পোষণ করো না। বরং তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে পরষ্পর ভাই ভাই হয়ে যাও।”সহীহ বুখারী ও মুসলিম
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকী এবং তার সাথে লড়াই করা কুফুরী।”সহীহ বুখারী ও মুসলিম
আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু‘ হাদীসে বর্ণিত, “যখন তোমরা তিনজন হবে, তখন একজনকে বাদ দিয়ে বাকী দু’জনে কানাঘুষা করবে না; যতক্ষণ না অন্যান্য মানুষের সাথে মিশে যাচ্ছ। কারণ, এটি অপর ব্যক্তিকে চিন্তিত করে তুলবে।”মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা তোমাদের তুলনায় নিম্নস্তরের লোকদের প্রতি তাকাও। তবে তোমাদের তুলনায় উপরের স্তরের লোকদের প্রতি তাকাবে না। কেননা, তোমাদের ওপর আল্লাহর নিয়ামতকে তুচ্ছ না ভাবার এটাই উত্তম পন্থা।”সহীহ বুখারী ও মুসলিম
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “প্রত্যেক আদম সন্তানই গুনাহগার। আর গুনাহগারদের মধ্যে তাওবাকারীগণ উত্তম।”এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। - এটি দারিমী বর্ণনা করেছেন
আবূ যার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন: “সাধারণ কোনো ভালো কাজকে তুচ্ছ করে দেখো না। তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাতের মতো (দেখতে সাধারণ কোনো) বিষয়ই হোক না কেনো।”ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “প্রকৃত বীর সে নয়, যে কাউকে কুস্তিতে হারিয়ে দেয়; বরং সেই প্রকৃত বাহাদুর, যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম “সহীহ বুখারী ও মুসলিম
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “ছোট বড়কে, চলমান বসে থাকা ব্যক্তিকে এবং অল্প সংখ্যক অধিক সংখ্যককে সালাম দিবে।” অপর বর্ণনায় রয়েছে: “আরোহী পায়ে হাঁটা ব্যক্তিকে।”মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।
আবূ মাস‘ঊদ আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উপস্থিত হয়ে বলল, আমার বাহন ধ্বংস হয়ে গেছে, আপনি আমাকে একটি বাহন প্রদান করুন। তিনি বললেন: “আমার কাছে তো তা নেই।” সে সময় এক ব্যক্তি বললো, আমি এমন এক ব্যক্তির সন্ধান তাকে দিবো যে তাকে বাহন দিতে পারে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “যে ব্যক্তি কোন উত্তম বিষয়ে পথ প্রদর্শন করে, তার জন্য আমলকারীর সমান সাওয়াব রয়েছে।”ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত, “তোমাদের কেউ যখন জুতা পরবে, তখন সে ডান পা দিয়ে শুরু করবে। আর যখন খুলবে, তখন সে বাম পা দিয়ে শুরু করবে। ডান পায়ের জুতা যেন আগে পরা হয় এবং পরে খোলা হয়।”মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।
আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম: আল্লাহর কাছে কোন গুনাহ সবচেয়ে বড়? তিনি বললেন: আল্লাহর জন্য শরীক সাব্যস্ত করা; অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।” আমি বললাম: এতো সত্যিই বড় গুনাহ। আমি বললাম: তারপর কোন গুনাহ? তিনি উত্তর দিলেন: “তুমি তোমার সন্তানকে এই ভয়ে হত্যা করবে, সে তোমার সঙ্গে আহার করবে।” আমি জিজ্ঞেস করলাম: এরপর কোনটি? তিনি উত্তর দিলেন: “তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে তোমার ব্যভিচার করা।”সহীহ বুখারী ও মুসলিম
‘আবদুল্লাহ ইবন ‘আমর ইবনুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত: “তোমরা পানাহার করো, দান-খয়রাত করো এবং পরিধান করো অপচয় ও অহংকার মুক্ত হয়ে।”এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি বুখারী মু‘আল্লাক হাদীসরূপে দৃঢ় বাক্য দ্বারা বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।
‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা মৃতদেরকে গালি দিও না। কেননা তারা নিশ্চিতভাবে তাদের কৃতকর্মের ফল পেয়ে গেছে।”এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।