BN
All hadiths
The complete card collection, filter by chapter
আল-কুরআনুল কারীম ও কুরআন সংক্রান্ত বিবিধ বিদ্যা
26
হাদীস ও হাদীস সংক্রান্ত বিবিধ বিদ্যা
3
আকীদা
135
ফিকহ ও উসূলে ফিকহ
288
ফযীলত ও শিষ্ঠাচার
288
দা‘ওয়াহ্ (আল্লাহর পথে আহ্বান) ও হিসবাহ (সৎকাজের আদেশ-অসৎকাজের নিষেধ)
15
জীবনী ও ইতিহাস
38
655 hadiths
উক্ত বর্ণনাকারী থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “(শামের) সাইহান ও জাইহান, (ইরাকের) ফুরাত এবং (মিসরের) নীল প্রত্যেক নদীই জান্নাতের নদ-নদীসমূহের অন্যতম।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন তখন বলতেন, “আমি একনিষ্টভাবে আমার মুখমণ্ডল তাঁর দিকেই ফিরালাম যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন। আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানী বা যাবতীয় ইবাদাত, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য। তাঁর কোনো শরীক নেই। আর আমি এরই আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি এবং আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত। হে আল্লাহ! আপনিই অধিপতি, আপনি ব্যতীত আর কোনো সত্য ইলাহ নেই। আপনি আমার রব, আমি আপনার বান্দা। আমি আমার নিজের উপর অন্যায় করেছি এবং আমি আমার পাপসমূহ স্বীকার করছি। সুতরাং আপনি আমার সমুদয় গুনাহ মাফ করে দিন। নিশ্চয় আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহসমূহ মাফ করতে পারে না। আর আপনি আমাকে সর্বোত্তম চরিত্রের পথে পরিচালিত করুন, আপনি ছাড়া আর কেউ উত্তম চরিত্রের পথে পরিচালিত করতে পারে না। আর আপনি আমার থেকে আমার খারাপ চরিত্রগুলো দূরীভূত করুন, আপনি ব্যতীত আর কেউ সে খারাপ চরিত্রগুলো দূরীভূত করতে পারে না। আমি আপনার হুকুম মানার জন্য সদা-সর্বদা হাযির, আপনি কল্যাণময়, সকল কল্যাণই আপনার দু’হাতে নিহিত। অকল্যাণ আপনার দিকে নয় অর্থাৎ মন্দকে আপনার দিকে সম্পৃক্ত করা উচিত নয়, অথবা মন্দ দ্বারা (আপনার নিকটবর্তী হওয়া যায় না, বা মন্দ আপনার দিকে উঠে না)। আমি আপনার দ্বারাই (প্রতিষ্ঠিত আছি) এবং আপনার দিকেই (আমার প্রত্যাবর্তন)। আপনি বরকতময় ও সুঊচ্চ। আমি আপনার নিকট ক্ষমা চাই এবং আপনার কাছে তাওবাহ করছি।” আর যখন রুকু করেন তখন বলতেন, “হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্যে রুকু করেছি, আপনার ওপর ঈমান এনেছি এবং আপনার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি। আমার কান, আমার চোখ, আমার মস্তিষ্ক, আমার হাঁড়, আমার পেশী, সবই আপনার জন্য বিনয়াবনত।” আর যখন রুকু থেকে মাথা তুলতেন, তখন বলতেন: “হে আল্লাহ, সকল আসমান ও যমীন ভর এবং যা তাদের মাঝে রয়েছে এবং এর পরেও আপনি যা চান সবকিছু পূর্ণ করে আপনার প্রশংসা।” আর যখন সাজদাহ করে তখন বলেন, “হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্যই সাজদাহ করেছি, আপনার ওপরই ঈমান এনেছি, আপনার কাছেই নিজেকে সঁপে দিয়েছি। আমার মুখমণ্ডল সাজদায় অবনত সেই মহান সত্ত্বার জন্য, যিনি একে সৃষ্টি করেছেন এবং আকৃতি দিয়েছেন, আর তার কান ও চোখ বিদীর্ণ করেছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ অত্যন্ত বরকতময়।” তারপর সালাম ও তাশাহুদের মাঝখানে সর্বশেষ বলতেন, “হে আল্লাহ! ক্ষমা করে দিন আমার গুনাহসমূহ- যা পূর্বে করেছি এবং যা পরে করব, যা আমি গোপনে করেছি এবং যা প্রকাশ্যে করেছি, এবং যে সীমালঙ্ঘন করেছি, আর যা আপনি আমার চেয়ে বেশি জানেন। আপনিই (কাউকে) অগ্রগামী করেন, আর আপনিই (কাউকে) পিছিয়ে দেন, আপনি ব্যতীত আর কোনো সত্য ইলাহ নেই।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
ইবন ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তাহাজ্জুদের উদ্দেশে যখন দাঁড়াতেন, তখন দো‘আ পড়তেন, «اللهم ربَّنا لك الحمدُ، أنت قَيِّمُ السموات والأرض، ولك الحمدُ أنت ربُّ السموات والأرض ومَن فيهنَّ، ولك الحمدُ أنت نورُ السموات والأرض ومن فيهنَّ، أنت الحقُّ، وقولُك الحقُّ، ووعدُك الحقُّ، ولقاؤك الحقُّ، والجنةُ حقٌّ، والنارُ حقٌّ، والساعةُ حقٌّ، اللهم لك أسلمتُ، وبك آمنتُ، وعليك توكَّلتُ، وإليك خاصمتُ، وبك حاكمتُ، فاغفر لي ما قدَّمتُ وما أخَّرتُ، وأسررتُ وأعلنتُ، وما أنت أعلم به مني، لا إلهَ إلا أنت». “হে আল্লাহ্! আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, আপনি আসমান যমীন ও এ দু’য়ের মাঝে বিদ্যমান সব কিছুর নিয়ামক এবং আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। আসমান যমীন এবং তাদের মাঝে বিদ্যমান সবকিছুর কর্তৃত্ব আপনারই। আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। আপনি আসমান যমীনের নূর। আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। আপনি আকাশ ও যমীনের মালিক, আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। আপনিই চির সত্য। আপনার ওয়াদা চির সত্য; আপনার সাক্ষাৎ সত্য; আপনার বাণী সত্য; জান্নাত সত্য; জাহান্নাম সত্য; নাবীগণ সত্য; মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য, কিয়ামত সত্য। হে আল্লাহ্! আপনার নিকটই আমি আত্মসমর্পণ করলাম; আপনার প্রতি ঈমান আনলাম; আপনার উপরেই তাওয়াক্কুল করলাম, আপনার সাহায্যেই তর্কে লিপ্ত হলাম এবং আপনাকেই বিচারক মেনে নিলাম। তাই আপনি আমার পূর্বাপর ও প্রকাশ্য গোপন সব অপরাধ ক্ষমা করুন। এবং আপনি আমার সম্পর্কে যা জানেন, (সব ক্ষমা করুন)। আপনি ব্যতীত সত্য কোনো ইলাহ্ নেই।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আরাফার দিন অপেক্ষা এমন কোনো দিন নেই, যেদিন আল্লাহ সর্বাধিক বেশি সংখ্যায় বান্দাকে দোযখমুক্ত করেন। এ দিন তিনি (বান্দার) নিকটবর্তী হন, অতঃপর তাদের সম্পর্কে ফিরিশতাদের নিকট গৌরব করে বলে, তারা কী চায়?”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “রহমান-আল্লাহ দয়াশীলদের প্রতি দয়া করেন। তোমরা যমীনবাসীদের প্রতি দয়া কর, যিনি আসমানের উপরে তিনি(আল্লাহ) তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।”
এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবন ‘আমর ইবনুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন, তখন বলতেন, «أعوذ بالله العظيم، وبوجهه الكريم، وسلطانه القديم، من الشيطان الرَّجِيم» “আমি মহান আল্লাহর কাছে তাঁর সম্মানিত চেহারা ও প্রাচীন ক্ষমতার উসীলায় বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি”। তিনি বলেন: এরূপই কি? আমি বললাম হ্যাঁ। তিনি বলেন, যখন এ দো‘আটি বলে তখন শয়তান বলে সারা দিনের জন্যে সে আমার থেকে নিরাপত্তা লাভ করল।
আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত: আল্লাহ বলেন, “আল্লাহ বলেন, যখন আমার বান্দা কোনো খারাপ কর্ম করার ইচ্ছা করে, তোমরা তা না করা পর্যন্ত তার ওপর লিপিবদ্ধ কর না। যখন বাস্তবায়ন করে তখন তুমি কর্ম সমান গুনাহ লিখ। আর যদি আমার কারণে তা ছেড়ে দেয়, তখন তার জন্য একটি নেকি লিপিবদ্ধ কর। আর যদি কোনো নেক আমল করার ইচ্ছা করল কিন্তু সে করে নি। তোমরা তার জন্য একটি নেকি লিখ। আর যদি সে নেক আমলটি করে, তাহলে তোমরা দশ গুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত নেকি লিপিবদ্ধ কর।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।
আবু সাঈদ আল খুদরী ও আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, “কোন আহবানকারী জান্নাতী লোকেদেরকে আহ্বান করে বলবে, এখানে সর্বদা তোমরা সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না। তোমরা স্থায়ী জীবন লাভ করবে, কখনো তোমরা মরবে না। তোমরা যুবক থাকবে, কখনো তোমরা বৃদ্ধ হবে না। তোমরা সর্বদা সুখস্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে, কখনো আর তোমরা কষ্ট-ক্লেশে পতিত হবে না। এটাই মহা মহিম আল্লাহর বাণী: {وَنُودُوا أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ} [الأعراف: 43]. (আর তাদেরকে সম্বোধন করে বলা হবে, তোমরা যে ’আমল করতে তারই বিনিময়ে তোমাদেরকে এ জান্নাতের উত্তরাধিকারী করা হয়েছে।) [সূরা আল আ’রাফ ৪৩] এর ব্যাখ্যা।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন
আবু সাঈদ আল-খুদরী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ্ তা‘আলা জান্নাতীদেরকে লক্ষ্য করে বলবেন, হে জান্নাতীগণ! তারা বলবে, হে আমাদের রব! হাযির, আমরা আপনার খেদমতে হাযির। এরপর আল্লাহ্ বলবেন, তোমরা কি খুশি হয়েছ? তারা বলবে, কেন খুশি হব না, আপনি আমাদেরকে এমন বস্তু দান করেছেন যা আপনার সৃষ্টি জগতের আর কাউকেই দান করেননি? তখন তিনি বলবেন, আমি এর চেয়েও উত্তম বস্তু তোমাদেরকে দান করব। তারা বলবে, হে আমাদের রব! এর চেয়েও উত্তম সে কোন্ বস্তু? আল্লাহ্ বলবেন, তোমাদের ওপর আমি আমার সন্তুষ্টি অবধারিত করব। অতঃপর আমি আর কক্ষনো তোমাদের ওপর নাখোশ হব না।
সহীহ বুখারী ও মুসলিম
আবূ মূসা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “জান্নাতে মুমিনের জন্য ফাঁপা মুক্তার একটি তাঁবু হবে। আকাশে এর দৈর্ঘ হবে ষাট মাইল। তাতে মুমিনের পরিবার-পরিজন থাকবে। মুমিন তাদের চতুষ্পার্শ্বে ঘুরাফেরা করবেন; তাদের কেউ একে অপরকে দেখবে না।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিম
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ তার ঘুম থেকে জাগ্রত হয় সে যেন তিনবার নাকে পানি দেয়। কারণ শয়তান তার নাসারন্ধ্রে রাত যাপন করে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিম
লাকীত ইবন সাবুরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আগত বনু মুনতাফিক্ব গোত্রের প্রতিনিধি দলটির নেতা ছিলাম আমি অথবা বলেছেন, আমি তাঁদের মধ্যেই ছিলাম। আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছলাম তখন তাঁকে তাঁর ঘরে উপস্থিত পেলাম না, অবশ্য উম্মুল মু’মিনীন ’আয়িশাহ্-কে পেলাম। তিনি আমাদের জন্য ’খাযিরাহ’ (এক প্রকার খাদ্য) তৈরীর আদেশ দিলেন। অতঃপর আমাদের জন্য তা তৈরী করা হলো এবং আমাদের সম্মুখে ক্বিনা’ (অর্থাৎ খেজুর ভর্তি একটি পাত্র) পেশ করা হলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে বললেনঃ “তোমরা কিছু খেয়েছো কি? অথবা তিনি বললেন, তোমাদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে কি?” আমরা বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল! লাক্বীত্ব বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় এক রাখাল তাঁর মেষপাল খোঁয়াড়ে নিয়ে এলেন। আর সাথে একটি ছাগলের বাচ্চা ছিল, সেটি চিৎকার করছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ “হে উমুক! কি বাচ্চা জন্ম হয়েছে?” সে বলল, মাদী। তিনি বলেন, “সেটির পরিবর্তে আমাদের জন্য একটি বকরী যাবাহ্ কর”। অতঃপর (প্রতিনিধি দলের নেতাকে উদ্দেশ্য করে) বললেনঃ “এমনটি মনে করো না যে, বকরীটি তোমার জন্যই যাবাহ্ করছি। বরং আমাদের কাছে একশ’টি বকরী আছে। তাই আমরা এর সংখ্যা আর বাড়াতে চাই না। সেজন্যই কোন বাচ্চা জন্ম হলে আমরা সেটির পরিবর্তে একটি বকরী যাবাহ্ করি”। তিনি বলেন, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমার একজন স্ত্রী আছে। সে অশ্লীলভাষী। তিনি বললেনঃ “তাহলে তাকে ত্বালাক দাও”। তিনি বলেন, আমার সাহচর্যে সে দীর্ঘ দিন অতিবাহিত করেছে এবং তার গর্ভজাত আমার একটি সন্তানও রয়েছে। তিনি বললেনঃ “তবে তাকে উপদেশ দাও। তার মাঝে কল্যাণ থাকলে সে উপদেশ গ্রহণ করবে। জেনে রাখ, নিজের জীবন সঙ্গিনীকে ক্রীতদাসীদের মত প্রহার করবে না”। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে অযু সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বলেনঃ “পরিপূর্ণরূপে অযু করবে, অঙ্গুলিসমূহ খিলাল করবে এবং নাকে উত্তমরূপে পানি পৌঁছাবে, তবে সিয়াম রত অবস্থায় নয়”।
এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বক্ষণ আল্লাহর যিকির করতেন।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জ্বর জাহান্নামের তীব্র উত্তাপের অংশ বিশেষ। অতএব, তোমরা তা পানি দ্বারা ঠাণ্ডা কর।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রথম আঘাতেই টিকটিকি হত্যা করে ফেলে, তার জন্য এত এত নেকী হয়, আর যে ব্যক্তি দ্বিতীয় আঘাতে মেরে ফেলে, তার জন্য প্রথম ব্যক্তি অপেক্ষা কম এত এত নেকী হয়। আর যদি তৃতীয় আঘাতে তাকে হত্যা করে, তাহলে তার জন্য (অপেক্ষাকৃত কম) এত এত নেকী হয়।” অপর এক বর্ণনায় আছে, “যে ব্যক্তি প্রথম আঘাতেই টিকটিকি হত্যা করে, তার জন্য একশত নেকী, দ্বিতীয় আঘাতে তার চাইতে কম (নেকী) এবং তৃতীয় আঘাতে তার চাইতে কম (নেকী) হয়।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
আবুল আসওয়াদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাদীনায় আসলাম এবং আমি ‘উমার ইব্নুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকট বসলাম। এ সময় তাদের পাশ দিয়ে একটি জানাযা অতিক্রম করল। তখন জানাযার লোকটি সম্পর্কে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করা হল। ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেলে। অতঃপর অপর একটি (জানাযা) অতিক্রম করল, তখন সে লোকটি সম্পর্কেও প্রশংসাসূচক মন্তব্য করা হল। (এবারও) তিনি বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেল। অতঃপর তৃতীয় একটি (জানাযা) অতিক্রম করল, লোকটি সম্বন্ধে নিন্দাসূচক মন্তব্য করা হল। তিনি বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেল। আবুল আসওয়াদ বলেন, আমি বললাম, হে আমীরুল মু‘মিনীন! কি ওয়াজিব হয়ে গেল। তিনি বললেন, আমি তেমনই বলেছি, যেমন নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, যে কোন মুসলিম সম্পর্কে চার ব্যক্তি ভাল বলে সাক্ষ্য দিবে, আল্লাহ্ তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন। ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, তখন আমরা বলেছিলাম, তিনজন হলে? তিনি বললেন, তিনজন হলেও। আমরা বললাম, দু’জন হলে? তিনি বললেন, দু’জন হলেও। অতঃপর আমরা একজন সম্পর্কে আর তাঁকে জিজ্ঞেস করিনি। এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।
আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! কেবলমাত্র পুরুষেরাই আপনার হাদীস শোনার সৌভাগ্য লাভ করছে। সুতরাং আপনি আমাদের জন্যও একটি দিন নির্ধারিত করুন। আমরা সে দিন আপনার নিকট আসব, আপনি আমাদেরকে তা শিক্ষা দেবেন, যা আল্লাহ আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন।’ তিনি বললেন, “তোমরা অমুক অমুক দিন একত্রিত হও।” অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট এসে সে শিক্ষা দিলেন, যা আল্লাহ তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন। তারপর তিনি বললেন, “তোমাদের মধ্যে যে কোন মহিলার তিনটি সন্তান মারা যাবে, তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে আড় হয়ে যাবে।” এক মহিলা বলল, ‘আর দু’টি সন্তান মারা গেলে?’ তিনি বললেন, “দু’টি মারা গেলেও (তাই হবে)।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি (গর্বভরে) বলে, লোকেরা ধ্বংস হয়ে গেল, সেই তাদের মধ্যে সর্বাধিক ধ্বংসপ্রাপ্ত।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
হিশাম ইবনু হাকীম ইবনু হিযাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, তিনি একবার সিরিয়ায় কয়েকজন মানুষের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যাদেরকে উত্তপ্ত সূৰ্যতে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল এবং তাদের মাথার উপর গরম তেল ঢালা হচ্ছিল। তখন তিনি বললেন, এটা কী? তাকে বলা হলো যে, তাদেরকে খাযনার জন্যে সাজা দেয়া হচ্ছে। তখন তিনি বললেন, হুশিয়ার! আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা সেসব লোকেদের শাস্তি দিবেন, যারা এ জগতে মানুষকে (অন্যায়) শাস্তি দেয়”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মুখ দিয়ে একটি গাধা গেল, যার মুখে দাগ লাগানো ছিল। তিনি বললেন, যে লোক এটিকে দাগ লাগিয়েছে, আল্লাহ তাকে লানত করুন।” মুসলিমের আরেক বর্ণনায় এসেছে, “রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীব-জন্তুর মুখে প্রহার ও দাগ লাগানতে নিষেধ করেছেন।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
আবূ যার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার কী অভিমত, যে নেক আমল করে এবং লোকেরা তার প্রশংসা করে? তিনি বললেন, “এতো মুমিন ব্যক্তির জন্য অগ্রিম সুসংবাদ।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
আবূ সা‘ঈদ খুদরী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “এক পুরুষ আরেক পুরুষের সতরের দিকে তাকাবে না এবং এক নারীও আরেক নারীর সতরের দিকে তাকাবে না। কোনো পুরুষ অন্য পুরুষের সাথে এক কাপড়ে শয়ন করবে না এবং কোনো নারীও অন্য নারীর সাথে এক কাপড়ে শয়ন করবে না।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেসব পুরুষকে অভিসম্পাত করেছেন যারা নারীর অনুরূপ পোশাক পরিধান করে এবং সেসব নারীকে অভিসম্পাত করেছেন যারা পুরুষের অনুরূপ পোশাক পরিধান করে।
হাদীসটি নাসায়ী তার সুনানুল কুবরাতে, ইবনে মাজাহ ভাবার্থে এবং ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন।
ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বালকের মাথার কিছু অংশের চুল কামানো ও কিছু অংশের চুল না কামানো দেখে তাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করলেন। তিনি বললেন, ”তোমরা মাথা মুণ্ডন করলে পুরোপুরি মুণ্ডন করবে, না হয় পুরোপুরি ছেড়ে দিবে।”
এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।
Previous page
Page 18 of 28
Next page